Dr.Kamruzzaman
প্রকৃত ধার্মিক কারো ক্ষতি করতে পারে না/করোনায় গরিবের ঈদ/বিভিন্ন ধর্মে মূর্তিপূজা ও ভাস্কর্য নির্মাণ/মহান বিজয় মাস ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা/বিজয়ের মাসে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা/দক্ষ জনশক্তির অভাব ও বেকারত্ব/মহানবী সা.-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন চরম ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক/ধর্ম ও ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং একজন অধ্যাপকের মূর্খতা/নতুন প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে/নতুন বছরে নতুনদের চাওয়া/বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ!!/Past and present of Islamic education in Bangladesh (part-1)/Past and present of Islamic education in Bangladesh (concluding part)/নতুন বছরে নতুনদের চাওয়া/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/টেকসই পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কেন জরুরি/টেকসই পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা/জেরুজালেম : রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/ক্রুসেড ও বর্তমান বাস্তবতা/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত/ঐতিহাসিক স্পেন: মুসলিমদের আগমন ও বিজয়/উন্নত পানিব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/নতুন বছরে নতুনদের চাওয়া/ইবির ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ এত অবহেলিত কেন?/বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, নাস্তিকতা ও সালাম প্রসঙ্গ/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/আফগান শাসনের অতীত ও বর্তমান/আফগান শাসনের অতীত ও বর্তমান/আফগান শাসনের পূর্বাপর/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত প্রসঙ্গ/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত প্রসঙ্গ/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত প্রসঙ্গ/বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি/বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি/যাকাত: দেশের দারিদ্র্যমুক্তির শ্রেষ্ঠ উপায়/বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট: প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ/বাজেটে জাকাতকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে/Proposed budget: Response and suggestions/Proper management of water in Islam/রোজা জীবনেরই অপরিহার্য অনুষঙ্গ/শিক্ষাকে বাঁচান, শিশু বাঁচবে/শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে/শিক্ষাকে বাঁচান, শিশু বাঁচবে/রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের অতীত ও বর্তমান/রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের অতীত ও বর্তমান/ঐতিহাসিক স্পেনঃ মুসলিমদের আগমন , ও বিজয়/মুসলিমদের আগমন বিজয়/স্পেনঃ মুসলিমদের আগমন,বিজয়/স্পেনঃ মুসলিমদের আগমন,বিজয়/লকডাউনে কঠোরতা: উপায়হীন দিনমজুর/লকডাউনে কঠোরতা: উপায়হীন দিনমজুর/তরুণদের ভাবনায় দেশের উন্নয়ন ও সুবর্ণজয়ন্তী/তরুণদের ভাবনায় দেশের উন্নয়ন ও সুবর্ণজয়ন্তী/তরুণদের ভাবনায় দেশের উন্নয়ন ও সুবর্ণজয়ন্তী/নাগরিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ/নাগরিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ/আদর্শ রাজনীতির পরিচয়/আদর্শ রাজনীতির পরিচয়/তারুণ্যের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ কতদূর/তারুণ্যের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ কতদূর/স্বাধীনতা ও বিজয়ের তাৎপর্য/রাজনীতির নানা মারপ্যাঁচ/গুচ্ছপদ্ধতি এবং ইবির ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ/ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা/মহানবী (স.) মাতৃভূমিকে অনেক ভালবাসতেন/মহানবী (স.) মাতৃভূমিকে অনেক ভালবাসতেন/মহানবী মুহাম্মাদ (স.) সৃষ্টির সেরা উপহার/মহানবী মুহাম্মাদ (স.) সৃষ্টির সেরা উপহার/মহানবী মুহাম্মাদ (স.) সৃষ্টির সেরা উপহার/দেশে আরবী ও ইসলামী শিক্ষা অবহেলিত কেন?/নতুন বছরের প্রত্যাশা/বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ!!/বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ!!/জাতীয় মূল্যবোধ এখন নির্বাসিত/স্বাধীনতা ও বিজয়ের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি/স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাশিক্ষার বৈষম্য/শোকাবহ আগস্ট মাসের আহ্বান/বঙ্গবন্ধু, যিনি জাতির জন্য জীবন দিয়ে গেছেন/নাগরিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ/বিশ্বময় মহামারি/দুর্নীতি রোধ করা এখন সবচেয়ে বড় দাবি/আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার মধ্যে বিভাজন বিস্তার লাভ করেছে/বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হাল মেনে নেওয়া যায় না/পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়েছে/উন্নয়নের সঙ্গে আরো যা করতে হবে/আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য/উন্নয়নে রাষ্ট্রের করণীয়/নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোর অপরাধ বাড়ছে

উন্নয়নে রাষ্ট্রের করণীয়

উন্নয়ন শব্দটি সাধারণত বিস্তৃতি, অগ্রগতি, প্রগতি ও প্রবৃদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিবর্তন, উত্তরণ, প্রসারণ ও বিকাশ অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর বিপরীত অর্থ হলো প্রত্যাবৃত্তি, পশ্চাদগামিতা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি। উন্নয়ন শব্দটি বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত ও পরিচিত একটি নাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেই উন্নয়ন বলা হয়ে থাকে। এ প্রবৃদ্ধি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি জাতি-রাষ্ট্রকে আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে দেয়। এ প্রবৃদ্ধি জাতীয় আয় এবং সঞ্চয়নকে গতিশীল করে তোলে। অন্যদিকে সঞ্চয়, উৎপাদন ও বিনিয়োগের গতিশীলতা নিশ্চিত করে। উন্নয়ন শব্দটি দ্বারা দেশের সুনির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়ের উন্নতিকে নির্দেশ করে না। দেশের আর্থ-সামাজিক ও সামষ্টিক গতিশীলতাকে উন্নয়ন বলা হয়। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এডাম স্মিথ বলেন, দেশের ধনিক শ্রেণীর পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক পুঁজির সঞ্চয়নকে জাতীয় উন্নয়ন বলা হয়। আধুনিক যুগে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতিকেই উন্নতির মাপকাঠি মনে করা হয়। Paul Stitin ও James Grants বলেন, ‘যখন একটি দেশের সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে তখনই কেবল তাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলা যাবে’। ঊনিশ শতকের শেষের দিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নকে যুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং উন্নয়ন বিষয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ন অনুষঙ্গ। বিংশ শতকের প্রথমদিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গটিও এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
ILO বলেছে, ‘একটি দেশের সকল মানুষের জন্য খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধপানি সরবরাহ, গৃহায়ন ইত্যাদি সুবিধাপ্রাপ্তির নামই হলো উন্নয়ন। অর্থনীতিবীদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘মানুষের স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করার প্রক্রিয়ার নাম হলো উন্নয়ন’। তিনি আরো বলেন, কোনো জাতি যদি নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জন্য উন্নত জীবনযাপন করে তাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। উন্নয়নের নিগূঢ় অর্থ হলো দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক উন্নতি। এ ইতিবাচক উন্নতির প্রেক্ষিতে যুগসন্ধক্ষণের চাহিদাও এক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। কারণ সময়ের পরিক্রমায় মানুষের চাহিদার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আর যে কোনো দেশে এ পরিবর্তনের ইতিবাচক স্থায়িত্বটা বড় বেশি প্রয়োজন। ড. সেনের মতে, একটি দেশের সকল অবস্থার স্থায়িত্বই মুখ্য হতে হবে। যা সাধারন জনগনের জীবনে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়; বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও এক টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সুদূর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শতকরা 50 ভাগ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির নাম উন্নয়ন’। তাঁর মতে, যে কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের নিম্নআয়ের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে সেটাকেই শুধু উন্নয়ন কর্মকান্ড বলা যাবে’।
সংক্ষিপ্ত এ আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উন্নয়ন হলো একটি দেশের আয় বৃদ্ধির এক সহায়ক প্রক্রিয়া। আর এ প্রক্রিয়াটি অব্যাহত পরিবর্তনশীল যা ঐ দেশের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সঞ্চয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সম্পদের সুষম বন্টন প্রক্রিয়া সহজতর করে। দেশের সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত করে। দেশের সকল স্তরে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদাগুলো অপেক্ষাকৃত স্থায়ীভাবে পূরণ করা সম্ভব হয় ইত্যাদি।
সাধারণত যে সমস্ত দেশের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির উপর রচিত হয়, টেকসই সামাজিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়, স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নতির সূচক ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়, সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। একটি উন্নয়নশীল দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিক ধাবিত হতে থাকে। দেশকে আস্তে আস্তে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু উন্নয়নশীল রাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো গণতন্ত্রহীনতা। কোনো দেশে যখন সুষ্ঠু গণতন্ত্রচর্চা ব্যাহত হয়, যদি গনতন্ত্রের জায়গায় সেখানে একনায়কতন্ত্র স্থান পায় এবং এ অবস্থা থেকে রাষ্ট্র বেরিয়ে আসতে আন্তরিক না হয় তাহলে সেই রাষ্ট্রটি আর উন্নত রাষ্ট্র হতে পারে না। একটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিচালনযন্ত্র থাকে।
গণতান্ত্রিক একটি দেশে এসব পরিচালনযন্ত্রই সুন্দরভাবে ঐ দেশকে পরিচালনা করে থাকে। ফলে ঐ দেশটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু দেশের অধিকাংশ জনগণ যখন পরিচালনযন্ত্রের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। দেশের অধিকাংশ জনগন যখন এক ব্যক্তির উপর আস্থাশীল হয়ে পড়েন তখন বোঝা যায়, সে দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা বেশ সংকটে পড়েছে। কারণ দেশে যখন সংকট সৃষ্টি হয়, গণতান্ত্রিক কাঠামো যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এ সুযোগে কতিপয় দুষ্টচক্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নিজেদের অনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে তারা সদা ব্যস্ত থাকে। রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে তারা প্রকৃত অবস্থা গোপন রাখে। ফলে রাষ্ট্রপ্রধানকে তারা বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থা জানতে ব্যর্থ হন। ফলে জনগনের মাঝে একটি চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
উন্নত রাষ্ট্র গঠনে আরেকটি বড় বাঁধা হলো রাজনৈতিক স্বার্থপরতা। দেশের রাজনীতি যখন জনগণের কল্যাণে পরিচালিত না হয়ে নিজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সেটাকে রাজনৈতিক স্বার্থপরতা বলে। কারণ রাজনীতিতে তখন মারাত্মকভাবে স্বার্থপরতা জড়িয়ে পড়ে। এসব দেশে রাজনীতিতে আগমন করেই একজন রাজনীতিক টাকাওয়ালা প্রভাবশালীতে রূপান্তরিত হন। দেশের রাজনৈতিক বিভিন্ন পদ-পদবীতে অর্থ-বাণিজ্য জড়িয়ে পড়ে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীতা পদটি তখন টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পদে নির্বাচন করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়। রাজনৈতিক বিভিন্ন পদ-পদবী তখন টাকার বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় হয়। অর্থাৎ এ দলীয় পদ-পদবী বাণিজ্যিক পদে রূপান্তরিত হয়ে যায়। আবার এক্ষেত্রে শুধু টাকাই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয় না। টাকা প্রদানের পাশাপাশি প্রার্থীকে বাহুবলেরও পরিচয় দিতে হয়। দলীয় হাঙ্গামায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে সক্ষমতার পরিচয় দিতে হয়। নিজ দলীয় রাজনীতিতে মারামারি করে বিজয়ী ব্যক্তিই কেবলমাত্র ঐ পদটি ক্রয়ের উপযোগী হন। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য প্রমাণ বহন করে। কারণ বর্তমান বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। কিন্তু বিগত ৫০ বছরেও দেশে কাংখিত পরিচ্ছন্ন গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নি। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও একটা সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায়নি। নির্বাচনকালীন সরকারের অবস্থাটা আরো শোচনীয়।
দীর্ঘ এত বছর পার হলেও দেশের নির্বাচনকালীন সরকারের একটা জননন্দীত কাঠামো আজ ও গড়ে ওঠেনি। দেশে যেকোনো সংকটে অধিকাংশ জনগণ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপর আজও আস্থাশীল হতে পারেন নি। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিই আস্থা ও ভরসা রাখেন। অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক অবস্থাও এখন স্বার্থপরতার কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ এ শব্দটি এখন কামড়াকামড়িতে রুপান্তরিত হয়েছে। রাজনীতিতে আগমন করেই একজন রাজনীতিক টাকাওয়ালা প্রভাবশালীতে রূপান্তরিত হয়ে পড়ছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিচালনযন্ত্র রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ত্বেই পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা দলীয় পরিচয় দিতে গর্ববোধ করছেন। এ পরিচয়ের পরিধি গত তিন দশক আগে শুরু হয়ে বর্তমানে এটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এটা উন্নত রাষ্ট্রের পটভূমিত মোটেই মানানসই নয়।
জাতীয় রাজনীতির মতো বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিও এখন সম্পূর্ণভাবে দলীয় দুর্বৃত্তায়নে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানেও রাজনীতি স্বার্থপরতার ভয়ানক ফাঁদে বন্দি হয়ে পড়েছে। এখানেও দলীয় পদ-পদবী পেতে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। জাতীয় রাজনীতির মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে। জনগণ এবং ছাত্র সমাজের কাছে রাজনীতি মানেই হলো এখন টাকার খেলা। এতসব অনৈতিক কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজ অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছে। রাজনীতি এখন একটা তামাশায় পরিণত হয়েছে। এটা একটি অপবিত্র বাক্য হিসেবে চায়ের দোকানে পরিচিতি পেয়েছে। কিছু হলেই মানুষকে এভাবেই বলতে শোনা যায় যে, ‘আমার সাথে রাজনীতি করো না’; I hate politics. স্বার্থপরতার এ রাজনীতি জাতি, রাষ্ট্র ও শিক্ষাঙ্গনকে সুস্পষ্ট দুটি ধারায় বিভক্ত করে দিয়েছে। বাংলাদেশের গোটা সমাজও আজ দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেছে। আর এ বিভক্তি একে অপরকে কিলারে পরিণত করেছে। সমাজ থেকে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন দূরীভূত হয়ে গেছে। সামাজিক দ্বন্দ্ব ও রেষারেষি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শোষণ ও নির্যাতনের মাত্রা দেশের সামগ্রিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। উন্নত রাষ্ট্রের পটভূমিতে একটি দেশে গুম ও খুন একেবারেই অনভিপ্রেত। কারণ গুম ও খুন কখনো দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে না; বরং এ উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। অথচ দেশে গত 15 বছরে ছয় শতাধিক গুমের ঘটনা ঘটেছে ( কালের কণ্ঠ, ৩০ আগষ্ট, ২০২১)। এসব ঘটনার অভিযোগে দেশে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা একটি জাতি ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। এ চ্যালেঞ্জ দেশে বৈদেশিক শিল্পনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। উৎপাদনে স্থবিরতার বিষয়টি উদ্যোক্তাদের ধমনিতে টান ধরিয়ে দিয়েছে। পোশাক শিল্প ধ্বসের বিষয়টি চিন্তাশীল ব্যক্তিদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এক কথায়, দেশের উন্নয়ন ও উন্নতিতে এই নিষেধাজ্ঞা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব উঁকি মারতে শুরু করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মানে শুধুই যুক্তরাষ্ট্র নয়। যুক্তরাষ্ট্র মানে হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র মানে হলো কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র মানে হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র মানে হলো সমগ্র ইউরোপ। সুতরাং নিষেধাজ্ঞা বিষয়টি দেশপ্রেমিক সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিংশ শতাব্দীর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অন্তরায় হিসেবে আরো পাঁচটি বিষয়কে উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: দুর্নীতি, অপশাসন, সামাজিক বৈষম্যের আধিক্য, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বিতর্কিত নির্বাচন। এ পাঁচটিই বাংলাদেশের অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে।
আধুনিক বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশকে সর্বাধুনিক উন্নত রাষ্ট্র বলা হয়ে থাকে। এসব রাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাধুনিক উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে। নবউদ্ভাবিত সর্বাধুনিক কৌশল অবলম্বন করেছে। সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। এতসব কারণেই এ সমস্ত দেশকে উন্নত দেশ বলা হয়ে থাকে। এ দেশগুলো নাগরিকের বাসস্থান সমস্যার সমাধান করেছে। কর্মমুখী শিক্ষার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বাক-স্বাধীনতার উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। নিরাপদ জীবন যাপনের প্রায় শতভাগ গ্যারান্টি দিয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও মহামারীতে ব্যাপক সুরক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ সমস্ত দেশে দেশের কর্তাব্যক্তিরা মহামারীর মাঝে শুধু নিজেরাই ঘরে বসে সুরক্ষিত থাকে না। জনগণকেও ঘরে বসিয়ে সুরক্ষা দিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সমস্ত দেশের সাধারণ জনগণকে ক্ষুধায় খাদ্য সংগ্রহ করতে দিশেহারা হতে হয় না। আমাদের দেশের মতো রাষ্ট্রনায়কেরা এসি রুমে সুরক্ষিত থাকে না। আর জনগন ক্ষুধার জ্বালায় রাস্তায়ও বের হয় না।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে রাষ্ট্রকে তাই উল্লেখিত বিষয়গুলোর সমাধানকল্পে নি:স্বার্থ আন্তরিক হতে হবে। জনগণের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে হবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সম্পদের সুষম বন্টনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বেকারত্বের চাপ কমাতে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। শুধুমাত্র সনদ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের নিজ এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। টাকার গরমে চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশলে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের শতভাগ নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দেশ থেকে নিরক্ষতা দূর করতে হবে। কারণ ডিজিটাল বাংলা গড়ার প্রথম শর্ত হলো শতভাগ জনতার শিক্ষিত হওয়া। বাংলার অর্ধেক জনতাকে অশিক্ষিত রেখে ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন পূরণ হওয়া এক অসম্ভব ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে গরীবদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রী করা যেতে পারে। দেশের উন্নয়ন-উন্নতি টেকসই করতে উল্লেখিত বিষয়গুলোর দিকে রাষ্ট্রের বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধানের একার পক্ষে এটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
নূর-ই ফাতিমা
নূর-ই ফাতিমা
4 years ago

অসাধারণ হয়েছে স্যার, এই লেখাগুলোই একদিন জাতীয় উন্নতির পথে নিরব ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

ABOUT ME

প্রফেসর,
দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ।

সকল ক্যাটাগরী

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
নূর-ই ফাতিমা
নূর-ই ফাতিমা
4 years ago

অসাধারণ হয়েছে স্যার, এই লেখাগুলোই একদিন জাতীয় উন্নতির পথে নিরব ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x