হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানি প্রেসিডেন্টের মৃত্যু: কিছু প্রশ্ন
৭ই অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আজ এ যুদ্ধর ঠিক সাড়ে সাত মাস পূর্ণ হলো। বলতে গেলে গোটা মুসলিম দুনিয়া এ বিষয়ে
find what you’re looking for
৭ই অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আজ এ যুদ্ধর ঠিক সাড়ে সাত মাস পূর্ণ হলো। বলতে গেলে গোটা মুসলিম দুনিয়া এ বিষয়ে
যেদিন লেখাটি প্রস্তুত করছি সেদিন গাজা যুদ্ধের তিন মাস দশ দিন পার হলো। গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে হামাস যোদ্ধারা ইসরাইলে অতর্কিত এক হামলা পরিচালনা
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ৪ কোটি মানুষ হতাহত হয়। এতে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে বাঁচাতে ১৯২০ সালে জন্ম হয় ‘লিগ অব নেশনস’। কিন্তু ‘লিগ অব নেশনস’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ইতিহাসের তাবৎ যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এ যুদ্ধে প্রায় সাত কোটি মানুষ নিহত হয়। যুদ্ধ থামাতে লিগ অব নেশনস কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে বিশ^মোড়লরা কার্যকর নতুন এক সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এ প্রেক্ষাপটেই যুদ্ধ থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে জাতিসংঘের জন্ম হয়। সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে সমতামূলক নিরাপত্তাবিধান নিশ্চিত করাই হলো জাতিসংঘের লক্ষ্য। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে। সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ। আদর্শিক এ ভাবনা থেকে জাতিসংঘের জন্ম হলেও সংস্থাটির জন্মের পরে বিশ্বে অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানেও বিশ্বে চলমান রয়েছে অনেক যুদ্ধ। দুর্বলদের উপর চলমান রয়েছে বহু সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলো ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যা। এ সমস্যার মৌলিক বিষয় হলো ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রসত্তা বিদ্যমান ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয় ঘটায় মুসলিম দেশগুলো ইউরোপের অধীনে চলে যায়। ফিলিস্তিনও ইউরোপীয়দের কলোনিতে পরিণত হয়। ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন ব্রিটিশ কর্তৃক শাসিত হয়। এ সময় ফিলিস্তিনে মুসলিম সংখ্যা ছিল কয়েক লাখ। আর ইহুদিদের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা কয়েক হাজার। কিন্তু ব্রিটিশদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে হাজার হাজার ইহুদিকে ফিলিস্তিনে আমদানি করা হয়। এভাবে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত খ্রিস্টানবিশ^ থেকে ইহুদিদের এনে এখানে জড়ো করা হয়। ১৯৪৮ সালে তাদের সংখ্যা ৬ লাখে দাঁড়ায়। তখন মুসলিম সংখ্যা ছিল ২০ লাখ। ভিতরে ভিতরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের হাতে তুলে দেয়ার জোর প্রস্তুতি নিতে থাকেন। শুরু হয় ইহুদি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায়। ততদিনে ইহুদিরা ফিলিস্তিনের মাটির গভীরে শিকড় গেড়ে বসে গেছে। ইহুদি-ব্রিটিশের জোর লবিং বিষয়টিকে নিয়ে যায় জাতিসংঘে। এটা সকলের মনে রাখা দরকার যে, জাতিসংঘ মানেই ইহুদি-খ্রিস্টানদের স্বার্থরক্ষাকারী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। আর এর নিয়ন্ত্রক হলো আমেরিকা ও ইউরোপ। আমেরিকা-ইউরোপ নিয়ন্ত্রিত জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন নিয়ে ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ প্রস্তাব পাস করে। এ তত্ত্বের ভিত্তিতেই জাতিসংঘ প্রাচীন ফিলিস্তিনকে ভেঙে দুই ভাগ করে। এক ভাগের নাম থাকে ফিলিস্তিন। আর নতুন ভাগের নাম দেয়া হয় ইসরাইল। ২০ লাখ মুসলিমের জন্য জাতিসংঘ জমি বরাদ্দ দেয় মাত্র ৪৩ ভাগ। বিপরীতে মাত্র ৬ লাখ ইহুদির জন্য জমি বরাদ্দ দেয় ৫৭ ভাগ! এভাবেই পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত জাতিসংঘের একচোখা নীতির ভিত্তিতে পাস হয় এক অযৌক্তিক প্রস্তাব। জন্ম নেয় একটি অবৈধ রাষ্ট্র। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে। রাত তখন ১২টা ১ মিনিট। ইহুদি নেতা দাভিদ বেনগুরিয়ান ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার মাত্র ১০ মিনিট পর ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অতঃপর স্বীকৃতি দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ব্রিটেন। এ স্বীকৃতির ঠিক ১ ঘণ্টার মধ্যেই আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়। নেতৃত্বশূন্য আর সমন্বয়হীন আরবরা যুদ্ধে পরাজিত হয়। ইহুদি সৈন্যরা ফিলিস্তিনের ৫০০টি গ্রাম জ¦ালিয়ে দেয়। ইহুদিরা দুই হাজার মুসলিমকে হত্যা করে। প্রায় ৮ লাখ মুসলিম দেশ ছাড়া হয়। দীর্ঘ ৭৬ বছরেও তারা তাদের বাড়ি ফিরে পায়নি। আজও তারা বিভিন্ন দেশের বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে! সেদিন থেকে একটি দিনের জন্যও মুসলিমদের উপর ইহুদিদের নিষ্ঠুরতা থামেনি বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি দিনের জন্যও শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি নিরীহ-নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা। আন্তর্জাতিক সব রীতি-নীতি উপেক্ষা করে ইসরাইল প্রতিনিয়ত নির্মাণ করেছে দেয়াল। চালিয়েছে তাদের আগ্রাসী অভিযান। জবরদখল আর নৃশংসতায় ফিলিস্তিন পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর মৃত্যুপুরিতে। এর প্রতিবাদে জাতিসংঘ শুধু নিন্দা করেই খালাস। ঘটেছে সাময়িক যুদ্ধবিরতি। এমন নিন্দা আর যুদ্ধবিরতি নতুন নয়। হামলা আর যুদ্ধবিরতির ঘটনা ১৯৪৮ থেকেই চলমান। জাতিসংঘের নিন্দায় ফিলিস্তিনিরা পায়নি তাদের অধিকার ও স্বাধীকার। কোনোদিন পায়নি কোনো সুবিচার। বিশ্বনেতারা কখনো তাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেনি। আর এক্ষেত্রে আরব বিশ্বের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি লজ্জাজনক। ইসরাইলের বর্তমান জনসংখ্যা ৮৬ লাখ ৭১ হাজার ১০০ জন। আর ২৫টি আরবদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি। এ বিশাল জনসংখ্যার নীরবতা ইসরাইলকে করে তুলেছে ভয়ানক আগ্রাসী। ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে আরব নেতাদের কোনো ভূমিকাই নাই। বরং তারা একে একে ইসরাইলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মিত্রচুক্তিতে। এর বিনিময়ে মুসলিম নেতারা পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার।
আধুনিক যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। বিগত বিশ বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রযুক্তির আশির্বাদে বর্তমানে গোটা পৃথিবী একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আজ বিশাল ভূপৃষ্ঠকে কব্জা করে নিয়েছে। সাগরের তলদেশ দখল করার পর মহাকাশ জগতকেও বশে আনতে যাচ্ছে বিজ্ঞান। নতুন নতুন আবিস্কারের ফলে মানুষের দৈনন্দিন কাজ সহজতর হচ্ছে। আর এর সবগুলোতে পশ্চিমাদের অবদানকেই মানুষ বড়ো করে দেখছে। প্রাচীন বহু সভ্যতা ডিঙ্গিয়ে আমরা নতুন সভ্যতায় পা রেখেিেছ। ইতিমধ্যেই একবিংশ শতাব্দির ২৩টি বছর আমরা অতিক্রম করেছি। নতুন সভ্যতা আমাদেরকে নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আমরা এ সময় পশ্চিমাদেরকেই নতুন সভ্যতার নির্মাতা মনে করছি। মনে করছি, পশ্চিমারাই সহনশীলতার প্রাণকেন্দ্র, পশ্চিমারাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্রষ্টা। এ সভ্যতার সবচেয়ে বড়ো শ্লোগান হলো, গণতন্ত্রের উন্নতি আর মানবাধিকার সুরক্ষা। গণতন্ত্র প্রশ্নে আমরা পশ্চিমাদেরকেই গণতন্ত্রের জনক মনে করে থাকি। আমরা মনে করি, পশ্চিমারাই মানবাধিকারের সংরক্ষক। বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম পশ্চিমাদের বাইরে কিছুই বোঝেনা। অতীতে কোনো জাতি উন্নত ও সভ্য ছিল, এটা তারা বিশ্বাসই করে না। এটা সত্য যে, আধুনিক পশ্চিমারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে যথেষ্ট উন্নতি সাধন করেছে। মানবাধিকার সুরক্ষায়ও তারা সুনাম কুড়িয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তারা অভূতপূর্ব অবদান রেখে চলেছে।