কালিমা, নামাজ, রুজা, হজ্ব ও যাকাত হলো ইসলামের মূল ভিত্তি। এগুলো মুসলিম জীবনের মৌলিক ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত। সে হিসেবে ওহীর প্রথম আদেশ হবার কথা ছিল নামাজ, রুজা, হজ্ব ও যাকাতের বিধান নিয়ে আলোচনা করা। কিন্তু ওহির আদেশ হলো এ বিধানের সম্পূর্ণ উল্টো। আদেশ এলো পড়া-লেখার তথা খাতা-কলম প্রস্তুত করার। এ আদেশ দ্বারা ইসলাম লেখা-পড়াকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাগ্রে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর আগমনের যুগটি ছিল মধ্যযুগ। এ যুগকে অজ্ঞতার যুগ বলা হয়। তিনি এ যুগকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করলেন। তিনি লেখাপড়ার গুরুত্ব প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা সকল মুসলিমের উপর ফরজ’।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। আর এ ব্যবস্থায় জীবনের সকল দিক ও বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামে রয়েছে নামাজ, রুজা, হজ্ব ও জাকাতের বিধান। রয়েছে হালাল-হারাম, রিসালাত, আখিরাত ইত্যাদির বর্ণনা। পাশাপাশি এ বিধানে রয়েছে যুগসন্ধিক্ষণের চাহিদা মোতাবেক সব ধরণের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইঙ্গিত। ইসলামী ব্যবস্থা সকল কালের, সকল যুগের ও সকল মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। তাই এই ব্যবস্থায় রয়েছে আধুনিক কালের সকল আবিষ্কারমূলক জ্ঞানের ইঙ্গিত। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি ও পালিত ঘোড়ার দল প্রস্তুত রাখো। যার দ্বারা তোমরা আল্লাহর শত্রুদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখবে” । (সূরা আনফাল: ৬০)।
শক্তি দ্বারা এখানে সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী সমরাস্ত্র উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এখানে কুরআন নাযিলের সময়কার সমরবিদ্যা ও প্রশিক্ষণের উপাদান উল্লেখ করা হয়নি। বরং উল্লেখ করা হয়েছে আরবি শব্দ ‘কুঅ্যত’। আল-কোরআনে ব্যবহৃত এ শব্দটি ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে থাকে। শব্দটি দ্বারা প্রাচীন যুগের তীর-ধনুক ও তলোয়ারকে বুঝায়। আবার মধ্যযুগে আবিষ্কৃত বন্দুক ও তোপকেও বুঝায়। আর বর্তমানকালের যুদ্ধবিমান, পারমানবিক বোমা, মিসাইল, সাবমেরিনসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্রও এর অন্তর্ভুক্ত। আবার ভবিষ্যতে আবিষ্কৃতব্য সমরাস্ত্রও এ শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি লোহা নাযিল করেছি, আর তাতে আছে প্রচুর শক্তি আর মানুষের জন্য আছে উপকারিতা’। (সুরা আল হাদীদ: ২৫)।
এ আয়াত দ্বারা কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের কথা নির্দেশ করা হয়েছে। দাউদ (আ:) লোহা দিয়ে পোশাক তৈরি করতেন। (সুরা আম্বিয়া: ৮০)।হাদীস শরীফে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা এক তীর দিয়ে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এক. যে ব্যক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য তীর বানায়, দুই. শিকারের জন্য যে তীর নিক্ষেপ করে , তিন: তীর নিক্ষেপে যে সাহায্য করে। তিনি আরো বলেন, তীর নিক্ষেপ ও ঘোড় সওয়ারির প্রশিক্ষণ দাও। তবে আমার কাছে তীর নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ ঘোড় সওয়ারের প্রশিক্ষণ থেকে উত্তম। (তিরমিযী: ১৬৩৭)। অপর এক হাদিসে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন, দুর্বল প্রকৃতির মুমিন অপেক্ষা, শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও উত্তম। (মুসলিম: ৬৯৪৫)। যাকারিয়া আলাইহিস সালাম কাঠ দিয়ে ফার্নিচার ও ঘর নির্মাণ করতেন। অর্থাৎ তিনি ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। (মুসলিম: ,৬৩১২)।
নূহ আলাইহিস সালাম কাঠ দিয়ে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম নৌকা তৈরি করেছিলেন। বর্তমান যুগে একজন ইঞ্জিনিয়ারের যে মর্যাদা তৎকালীন যুগে জাকারিয়া ও দাউদ আলাইহিস সালামের একই মর্যাদা ছিল। মূলত দেশে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক শিক্ষা বলে। বাংলাদেশে সর্বাধিক প্রচলিত ও সর্বজনস্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থাই আধুনিক শিক্ষা। এ শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। এ শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত রয়েছে আধুনিক বিভিন্ন জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাক্টিক্যাল বিষয় ও নানা আবিষ্কারের ধারণা দেয়া হয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে তৈরি হয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হলো, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক এসকল শিক্ষাব্যবস্থা ও আবিষ্কার ইসলামী শিক্ষার বাইরে কী?
কোরআন ও হাদিস শরীফে জ্ঞান অর্জনের কথা বলা হয়েছে। সূরা আল বাকারাতে আদম আলাইহিস সালামকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন মর্মে বর্ণিত হয়েছে। (সূরা আল বাকারা: ৩১)। এই একই সূরার 201 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকাল এবং পরকালে কল্যাণ দান করো”। আল কুরআনে উল্লেখিত এসব আয়াতে জ্ঞানের কোনো শ্রেণীবিন্যাস করা হয়নি। ইহকালীন তথা জাগতিক ও পরকালীন জ্ঞান বলে পার্থক্য নির্দেশ করেনি। আল্লাহ তা’আলা মানুষকেখলিফা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। বিশাল এ পৃথিবী পরিচালনা করতে জাগতিক নানারকম জ্ঞানের প্রয়োজন। আর এ জ্ঞান অর্জনের জন্য কোরআন ও হাদিসে নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং এটি জাগতিক জ্ঞান হলেও এটা ইসলামী জ্ঞানেরই অন্তর্ভুক্ত। আল-কোরআন ও আল-হাদীসে বর্ণিত জাগতিক জ্ঞান ইসলামী জ্ঞানের বাইরে হতে পারেনা।
ইসলামের প্রাথমিক সোনালী যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধর্মীয় ও আধুনিক বলে কোন পার্থক্য নির্দেশ করা হয়নি। আল কোরআন ও আল হাদীসের জ্ঞানের গুরুত্ব বিবেচনা করে সাহাবী, তাবেয়ী ও তৎপরবর্তী ইমামগণ গোটা বিশ্বে জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে ছিলেন। তাফসীর শাস্ত্রে জন্ম নিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু, ইবনে কাছীর, ইমাম কুতুবী, ইমাম জাফর সাদিক প্রমূখ অসংখ্য মুফাসসির। হাদীস শাস্ত্রে জন্ম নিয়েছিলেন ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম নাসাঈ, ইমাম তিরমিজি, ইমাম আবু দাউদের মত জগৎ বিখ্যাত মুহাদ্দিস। ফিকাহ শাস্ত্রে জন্ম নিয়েছিলেন ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম শাফেঈ (র.), ইমাম মালেক (র.) ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.) এর মতো তারকা খ্যাত ফকীহ।মহানবী সাল্লাল্লাহু এর যুগে প্রসিদ্ধ ডাক্তার ছিলেন হারেস ইবনে কালদাহর। পরবর্তী যুগে চিকিৎসাবিদ্যায় মুসলমানরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ইবনে সিনা, আল-বিরুনী, হাসান ইবনে হাইসাম, আলী ইবনে রাব্বান প্রমূখ ছিলেন মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের অন্যতম।
আল-ফারগানী ছিলেন ফলিত প্রকৌশলের অগ্রদূত। জাবের ইবনে হাইয়ানকে রসায়ন শাস্ত্রের জনক। তিনি শুধু রসায়ন শাস্ত্রের জনক ই ছিলেন না। বরং আলকেমিবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, প্রকৌশলী, দার্শনিক ও পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবেও তার খ্যাতি বিশ্বময়। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, তাফসীর, হাদীস এবং ফিকহ চর্চার ধারা আজ অব্যহত আছে। রচিত হচ্ছে নতুন নতুন হাদিস, কোরান এবং ফিকহ শাস্ত্রের উপর অনেক গ্রন্থ। কোরআন হাদিস এবং ফিকহ চর্চাকারী গবেষকগন আধুনিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় না। পাঠক ও সাধারন জনতাকে কোনোরুপ উৎসাহ ও দেন না। বরং কোনো একজন এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে উৎসাহিত করেন। অথচ নিজে গবেষণার জন্য দামী ল্যাপটপ, মোবাইল ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, ইমেইল, ইন্টারনেট ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। নিজে চলার জন্য দামী গাড়ি ব্যবহার করছেন। বিদেশ সফরে বিমানে আরোহন করছেন। বিজলী উচ্ছরিত মসজিদ ছাড়া তিনি ইমামতি করেন না। নিজের বাড়িতে আধুনিক সকল কারুকার্যের সমাহার জ্জলজ্বল করতে দেখা যায়। স্ত্রী ও সন্যার অসুস্তায় মহিলা ডাক্তার খুঁজে বেড়ান।
Post Views: 1,193
msghglyhgcgmydhmsghglyhgcgmydhcmgsgkygdmgdkydlyhhxmhdyljjfmhxmbxhxhmgzmggzmhz.vzmtsmgznfnzmgdmgxmgxhxmgxmggxmgzmvhzmgzmgzc MggmNbMggmNbghhhxmg🎃🎃🤗🎃🎃🫶😓🎃🎃🎃🎃😓😹🫶😓🫣😓😳🥲😊🙂🙂😳