ড. মো : কামরুজ্জামান
বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসেব মতে, করোনার ছোবলে বিশ্ব থেকে ঝরে পড়েছে ৩৫ লাখ বনী-আদম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা মতে, এ সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ লাখ হবে। সরকারি হিসেবে করোনায় বাংলাদেশে এপর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ১২ হাজার ৪৪১ জন। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে দ্বিগুণ হবারই সম্ভাবনা। (এ পরিসংখ্যানটি ২৫ মে, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত) বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব ১৪ মাস যাবত বিভীষিকাময় এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিশ্ববাসী এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা আগে কখনও করেনি। আর এ বিভীষিকা গরীবদেশগুলোর উপর ভয়াল থাবা বিস্তার করে চলেছে। বিশেষত অনুন্নত দেশগুলো ভয়ঙ্কর ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বাংলাদেশে মারাত্নক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলশ্রুতিতে দেশের অনেকে চাকরি হারিয়েছেন । দারিদ্র্য বেড়ে গিয়েছে। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকেরই অবনমন ঘটেছে। দেশের আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতের ক্ষতির পরিমাণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। (কালের কন্ঠ, ১৯ মার্চ, ২০২১) সবেমাত্র বাংলাদেশ এলডিসি অতিক্রম করেছে। দারিদ্র্য দূর হয়নি বরং বেড়েছে। বিবিএসের তথ্য মতে, ২০১৬ সালে গ্রামাঞ্চলের সার্বিক দারিদ্র্য ছিল ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে সেটা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলে ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ যা ২০২০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। (বাংলা ট্রিবিউন, ২৬ মার্চ, ২০২১) দেশে আজও পর্যন্ত ভূমিহীনের ঘরের ব্যবস্থা হয়নি। দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হয়নি। বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী, সার্বিকভাবে শিক্ষিতদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের বেশি বেকার। আর এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যারা প্রথম শ্রেণি পেয়েছে, তাদের মধ্যে বেকারত্ব ১৯ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশই বেকার। করোনায় ৭০ শতাংশ মানুষকে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত বেকার থাকতে হয়েছে। আর কাজে যোগদান করলেও ৬৩ শতাংশ মানুষের আয় কমে গিয়েছে। ফলে তাদের জীবনযাপনের মান অবনতি ঘটেছে। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও চাকরি হারিয়েছে প্রতি তিনজনে একজন। করোনায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিক্ষাখাত। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একেতো কর্মমুখী নয়। অপরদিকে যাও আছে তাও করোনার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে অদ্যবধি বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
দেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭ টি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৯৩। (odhikar.news, 25gvP©, 2021) দেশের প্রাথমিকের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৮। (dpe.gov.bd, 25/5/2021)মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৮৯। ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১ কোটির উপরে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তথ্য মতে, দেশে বেসরকারি মহাবিদ্যালয় সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। আর শুধু অনার্স-মাস্টার্স করানো হয় এমন কলেজের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এসমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। বাংলাদেশে আলিয়া মাদরাসা রয়েছে ৯ হাজার ৩১৯ টি। আর কওমি মাদরাসা আছে ১৩ হাজার ৯০২ টি। এ উভয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫৩ লাখ। (বণিক বার্তা ২৫ মার্চ, ২০২১) প্রফেশনাল শিক্ষায় বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। টিচার এডুকেশন-এ অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ লাখের উপরে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। ১০৬ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৯২ জন (বাংলা ট্রিবিউন ২৫ মে, ২০২১)। দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংখ্যা প্রায় ৬০০টি। এখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজার। সারাদেশে ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে প্রায় নয় হাজার। আর এখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। সারাদেশে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেন। এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তারমানে দেশের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ কোটির উপরে। দেশের মোট জনশক্তির প্রায় এক তৃতীয়াংশ এ বিশাল জনগোষ্ঠির সকলেই বলতে গেলে শিশু ও কিশোর। মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ছাড়া সকলেই বয়সে শিশু। এ শিশুরাই হচ্ছে আগামীর বাংলা গড়ার কারিগর। এদের মধ্যেই লুকায়িত আছে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। করোনাভাইরাসে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও তারা এ ভাইরাসের নীরব শিকারে পরিণত হয়েছে।
করোনা ভাইরাস জনিত দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও ক্ষুধা শিশুর মনোজগতে বাঁধা সৃষ্টি করেছে। একদিকে পরিবারে খাদ্য সংকটের কারণে তারা অপুষ্টিতে ভুগছে, অন্যদিকে ঘরবন্দী শিশুরা একাকীত্বে ভুগছে। সারাদিন প্রচারমাধ্যমে মৃত্যু নিয়ে আলোচনা, মা-বাবার করোনাজনিত উদ্বেগ-উৎকন্ঠা, পরিবারের আয়-রোজগারে অনিশচয়তা আর চারিদিকে শুধু শংকার আবহ শিশুর মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দরিদ্র পরিবারে চাল নেই, চুলা নেই, আয় নেই, টাকা নেই, ঘরে খাবার নেই, সংসার চালানোর উপায় নেই, দুর্দিনের শেষ নেই, সামনে কী হবে ইত্যাদি দুশ্চিন্তার আলোচনা শিশুদের বিষন্নতায় ঘিরে ধরেছে। চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল শিশুর বুদ্ধিবিকাশ বাধাগ্রস্থ করছে। ঘরের দরজা বন্ধ করে এসব শিশু একাকী নির্জনে বসে মোবাইলিং করছে। প্রতি আধা সেকেন্ডে একজন নতুন শিশু ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হচ্ছে। আর দিনে যুক্ত হচ্ছে ১ লাখ ৭৫ হাজার শিশু। আর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ২৫ শতাংশই শিশু। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ করোনায় ৬৫ শতাংশ শিশু মোবাইল/ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আসক্তি বেড়েছে। ২০১৯ সালের গার্ডিয়ান কমনসেন্স-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আমেরিকার ৬৯ শতাংশ ১২ বছর বয়সী শিশু স্মার্টফোনে অভ্যস্ত। আমেরিকার কমিউনিটি সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৩-১৮ বছর বয়সী ৯৪ শতাংশ শিশুর জন্য বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার সুবাদে বাচ্চারা ইন্টারনেট বেশী ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। অনেকে এর প্রতি আসক্তও হয়ে পড়েছে।
এনবিসি নিউজের তথ্যানুযায়ী, ৮-১২ বছরের একটি শিশু দিনে মোট ৬ ঘন্টা মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করছে। করোনায় এর ব্যবহার আরো ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের শিশুরাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের শতকরা প্রায় ৮০ভাগ শিশুই মোবাইল ব্যবহার করে। এ সমস্ত শিশুরা মোবাইলে অগণিত বাজিতে আসক্ত। ফ্রি ফায়ার, পাবজি, মাইনক্র্যাফট, টাউনশিপ, লুডোকিং, টেম্পেল রান, জিটিএ ভি, ক্লাশ রয়েল, ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান্স ইত্যাদি গেমরুপী বাজিতে মারাত্নক আসক্ত হয়ে পড়েছে শিশুরা। গেমের পাশাপাশি পর্নোগ্রাফীতেও তারা আসক্ত। যা অভিভাবকমহলে রীতিমত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এ আসক্তি মাদকের চেয়েও ভয়ানক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে পারে। এ আসক্তি পরিবার ও সমাজে ইতিমধ্যে বিপর্যায় ডেকে আনতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তারা বাবা-মা ও মুরুব্বিদের অবাধ্য হয়ে গেছে। গ্রাম-গঞ্জে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বিভিন্ন শারিরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুরা মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুকির মধ্যে নিপতিত হচ্ছে। তাদের সামাজিক দক্ষতা লোপ পাচ্ছে। মানবিক গুণাবলী হ্রাস পাচ্ছে। তারা লেখাপড়ায় মনযোগ হারাচ্ছে। মেজাজের ভারসাম্য হারাচ্ছে। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে শিশুদের চোখের কর্নিয়া ও রেটিনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে আজ শিশুরা পড়ালেখা ভুলে যেতে বসেছে। শিশুদেরকে বাঁচাতে তাই শিক্ষাকে বাঁচানো প্রয়োজন। শিক্ষাটা আজ রাজনীতির মারপ্যাঁচে বন্দী হয়ে গেছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের কাছ থেকে জাতি কাঙ্খিত সময়োপযোগী ভূমিকা পাচ্ছে না। তারা ইউজিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পোস্ট-পদবী পেতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিত্ব জলাঞ্জলি দিয়ে অধ্যাপকগণ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের তৈলমর্দনে ব্যস্ত আছেন। এক্ষেত্রে দৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদন লক্ষ্যণীয়। ঐ প্রতিবেদনে একজন পিয়নের বরাতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভিসি হওয়ার জন্য তাদের পা ধরতেও বাকি রাখে না। ঐ একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসি, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর ইত্যাদি পদ পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ক্ষমতাসীনদের ব্যাগ বয়ে বেড়ান। ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ও রাজনৈতিকনেতাদের পিএস, এপিএস এমনকি পিয়নদেরও পদলেহন করেন। (দৈনিক যুগান্তর, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯) অন্যান্য স্তরের শিক্ষকগণেরও একই অবস্থা। নেতা হবার ভয়াল নেশায় শিক্ষকগণ তাদের মর্যাদাকে পদতলে পিষ্ঠ করেছেন। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ উদ্ধারের নিরন্তর বাসনার নিষ্ঠুর বলির শিকার আজ ৫ কোটি শিশুর জীবন। খ্যাতিমান শিক্ষাবিদদের নীরবতা এ শিশুদের জীবনকে আরো অনিশ্চিত গন্তব্যে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনীতির মারপ্যাচ থেকে শিক্ষাকে বাঁচাতে তাই শিক্ষাবিদদেরকে এগিয়ে আসা অতীব জরুরী। রাজনীতিকে নিয়ে যেতে হবে ৫২, ৬২, ৬৯, ৭১ ও ৯০-এর দশকে। নতুবা এ নোংরামী বাদ দিতে হবে। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি পরিহার করতে হবে। শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে, শিশুকে বাঁচাতে হবে, তাহলেই দেশ বাঁচবে। শিক্ষকদের মেরুদন্ড সোজা করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যাংক-বীমা খোলা আছে। হাট বাজার খোলা আছে। শিল্প-কলকারখানা খোলা আছে। অফিস আদালত খোলা আছে। ব্যবসায়-বাণিজ্য চলছে ঠিকঠাক ভাবে। যানবাহন যথারীতি চলাচল করছে। স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও জনগনের কাছে এর গুরুত্ব খুব একটা নেই। আর শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোন মানে হয় না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করা যেতে পারে:
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সপ্তাহে ৫ দিন খোলা থাকে। এ ৫ দিনে পাঁচটি বর্ষের ক্লাস নেয়া যেতে পারে। সপ্তাহের প্রথম দিনে প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় দিনে তৃতীয় বর্ষ, চতুর্থ দিনে চতুর্থ বর্ষ ও পঞ্চম দিনে মাস্টার্সের ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। যে সমস্ত কলেজে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালু আছে, এ সকল প্রতিষ্ঠানে এ একই নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে। ডিগ্রিকলেজগুলোতে প্রথমদিন ডিগ্রি ও দ্বিতীয়দিন ইন্টারসেকশনে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। হাই স্কুল ও মাদরাসাগুলোতে ৫ দিনে পাঁচশ্রেণীর ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। ঠিক প্রাথমিকেও এ একই নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে। মন্দের ভালো হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে অন্তত এভাবে শিশুদের বাঁচাতে স্কুলমুখী করা যেতে পারে। বরেণ্য ও প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে আরো সুন্দর ও সময়োপযোগী পদ্ধতি প্রকাশের দাবি করছি। শিক্ষা, শিশু ও জাতিকে বাঁচাতে তাদের কাছে আশু পদক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় জাতি এর চেয়েও ভয়াবহ অন্ধকার অমানিশার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশংকা বোধ করছি।