Dr.Kamruzzaman
প্রকৃত ধার্মিক কারো ক্ষতি করতে পারে না/করোনায় গরিবের ঈদ/বিভিন্ন ধর্মে মূর্তিপূজা ও ভাস্কর্য নির্মাণ/মহান বিজয় মাস ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা/বিজয়ের মাসে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা/দক্ষ জনশক্তির অভাব ও বেকারত্ব/মহানবী সা.-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন চরম ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক/ধর্ম ও ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং একজন অধ্যাপকের মূর্খতা/নতুন প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে/নতুন বছরে নতুনদের চাওয়া/বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ!!/Past and present of Islamic education in Bangladesh (part-1)/Past and present of Islamic education in Bangladesh (concluding part)/নতুন বছরে নতুনদের চাওয়া/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/টেকসই পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কেন জরুরি/টেকসই পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা/জেরুজালেম : রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/ক্রুসেড ও বর্তমান বাস্তবতা/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত/ঐতিহাসিক স্পেন: মুসলিমদের আগমন ও বিজয়/উন্নত পানিব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা/নতুন বছরে নতুনদের চাওয়া/ইবির ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ এত অবহেলিত কেন?/বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, নাস্তিকতা ও সালাম প্রসঙ্গ/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/জেরুজালেমঃ রক্তাক্ত এক দুঃখের নগরী/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক তুরস্ক/আফগান শাসনের অতীত ও বর্তমান/আফগান শাসনের অতীত ও বর্তমান/আফগান শাসনের পূর্বাপর/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত প্রসঙ্গ/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত প্রসঙ্গ/ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংঘাত প্রসঙ্গ/বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি/বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি/যাকাত: দেশের দারিদ্র্যমুক্তির শ্রেষ্ঠ উপায়/বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট: প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ/বাজেটে জাকাতকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে/Proposed budget: Response and suggestions/Proper management of water in Islam/রোজা জীবনেরই অপরিহার্য অনুষঙ্গ/শিক্ষাকে বাঁচান, শিশু বাঁচবে/শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে/শিক্ষাকে বাঁচান, শিশু বাঁচবে/রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের অতীত ও বর্তমান/রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের অতীত ও বর্তমান/ঐতিহাসিক স্পেনঃ মুসলিমদের আগমন , ও বিজয়/মুসলিমদের আগমন বিজয়/স্পেনঃ মুসলিমদের আগমন,বিজয়/স্পেনঃ মুসলিমদের আগমন,বিজয়/লকডাউনে কঠোরতা: উপায়হীন দিনমজুর/লকডাউনে কঠোরতা: উপায়হীন দিনমজুর/তরুণদের ভাবনায় দেশের উন্নয়ন ও সুবর্ণজয়ন্তী/তরুণদের ভাবনায় দেশের উন্নয়ন ও সুবর্ণজয়ন্তী/তরুণদের ভাবনায় দেশের উন্নয়ন ও সুবর্ণজয়ন্তী/নাগরিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ/নাগরিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ/আদর্শ রাজনীতির পরিচয়/আদর্শ রাজনীতির পরিচয়/তারুণ্যের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ কতদূর/তারুণ্যের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ কতদূর/স্বাধীনতা ও বিজয়ের তাৎপর্য/রাজনীতির নানা মারপ্যাঁচ/গুচ্ছপদ্ধতি এবং ইবির ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ/ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা/মহানবী (স.) মাতৃভূমিকে অনেক ভালবাসতেন/মহানবী (স.) মাতৃভূমিকে অনেক ভালবাসতেন/মহানবী মুহাম্মাদ (স.) সৃষ্টির সেরা উপহার/মহানবী মুহাম্মাদ (স.) সৃষ্টির সেরা উপহার/মহানবী মুহাম্মাদ (স.) সৃষ্টির সেরা উপহার/দেশে আরবী ও ইসলামী শিক্ষা অবহেলিত কেন?/নতুন বছরের প্রত্যাশা/বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ!!/বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ!!/জাতীয় মূল্যবোধ এখন নির্বাসিত/স্বাধীনতা ও বিজয়ের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি/স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাশিক্ষার বৈষম্য/শোকাবহ আগস্ট মাসের আহ্বান/বঙ্গবন্ধু, যিনি জাতির জন্য জীবন দিয়ে গেছেন/নাগরিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ/বিশ্বময় মহামারি/দুর্নীতি রোধ করা এখন সবচেয়ে বড় দাবি/আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার মধ্যে বিভাজন বিস্তার লাভ করেছে/বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হাল মেনে নেওয়া যায় না/পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়েছে/উন্নয়নের সঙ্গে আরো যা করতে হবে/আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য/উন্নয়নে রাষ্ট্রের করণীয়/নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোর অপরাধ বাড়ছে

বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা


ডঃ মোঃ কামরুজ্জামান

আমাদের এই উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল মাদ্রাসা দিয়ে। অনেকেই অনেক কিছু মনে করতে পারেন। তবে আমি মনে করি, ধর্মীয় অনুভূতির বাইরে আমরা কেউ না। আমরা ধর্মকে অস্বীকার করতে পারিনা। আবার ধর্মের অপব্যবহার হোক এটাও আমরা চাই না। জীবন-জীবিকার শিক্ষার পাশাপাশি যখনই আমরা ধর্ম শিক্ষাটা গ্রহণ করতে পারি তখনই শিক্ষাটা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হয়। আমি মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়ে বলব, এখানে লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়েরা লেখাপড়াা করে। দেশের অনেক গরীব ও এতিম সন্তান এখানে ঠাঁই পায়। কিন্তু তাদের আসলে কোন স্বীকৃতি ছিল না। তারা নিজেরা নিজেদের মতো করেই করতো। আমি চেষ্টা করে গেছি এটার একটা সমাধান করতে। আজকে সেটা করে (কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি) দিয়েছি তাদের জন্য। কেউ যদি এখন আমার জন্য দোয়া করে বা কেউ যদি ভালো বলে তাহলেতো দেশের মানুষের খুশি হওয়ার কথা। যারা আমার সত্যিকারের ভালো চায়না, যারা আমাকে খুন করার চেষ্টা করছে, তারা হয়তো মনে কষ্ট পাবে, অখুশি হবে। কিন্তু সারা বাংলাদেশের মানুষ (কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির কারণে) খুশি হয়েছে। এখন আমার অনুভূতি এতোটুকুই; যারা শিক্ষা গ্রহণ করতো তাদের যে একটা ভবিষ্যতের ঠিকানা করে দিতে পেরেছি সেটাই আমার বড় সেটিসফেকশন (তৃপ্তি)।
উপরে উল্লেখিত বক্তব্যটি বাংলাদেশের চারবারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। (দৈনিক যুগান্তর, ৪ অক্টোবর, ২০১৮)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে গণভবনে আয়োজিত আলেম ওলামাদের সাথে এক মিটিং-এ উল্লেখিত বক্তব্যটি প্রদান করেন। অসংখ্য ধন্যবাদ মাননীয় প্রধাানমন্ত্রীকে। “উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা শুরু হয়েছে মাদ্রাসা দিয়ে” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্, তাৎপর্যপূর্ণ ও বিশ্লেষণাত্মক। কারণ বিষয়টি ধমপ্রাণ অনেক বাঙালিরই অজানা। অনুসন্ধিৎসু পাঠকের জানার জন্য প্রাচীন বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজন বোধ করছি। বিষয়টি নিরপেক্ষ অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করলে জানা যায় যে, প্রাচীন বাংলায় শিক্ষাব্যবস্থা খুব একটা সংগঠিত ছিলনা। আজ থেকে ৩০০০ বছর আগের যুগটি ছিল বৈদিক যুগ। ঐতিহাসিকদের মতে, এ সময় লেখাপড়ার কোনো সংগঠিত রুপ ছিল না। এ যুগে আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের নিমিত্তে শুধুমাত্র মন্দিরকেন্দ্রিক লেখাপড়া চালু ছিল। আর এ যুগের ঠিক ৫০০ বছর পরে শুরু হয় ব্রাম্মাণ্য যুগ। আদি মানুষের আত্মা, জন্ম আর মৃত্যু পরিচালননিয়ম জানাই ছিল এ শিক্ষার উদ্দেশ্য। কিন্তু এ শিক্ষা সার্বজনীন ছিল না। শুধুমাত্র ব্রাম্ম্যণ পরিবারের শিশুরাই এ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতো। এর বাইরে নিম্নবর্ণের কোন গোত্র লেখাপড়া করার অধিকার রাখতো না। এ যুগ শেষ হলে শুরু হয় বৌদ্ধশিক্ষা যুগ। এ যুগের সূচনা খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতকে। এ শিক্ষাব্যবস্থাটাও ছিল মঠকেন্দ্রিক। শুধু মঠকেন্দ্রিক থাকার কারণে এ শিক্ষাব্যবস্থারও সার্বজনীনতা ছিলনা। এভাবেই মন্দিরকেন্দ্রিক, মঠকেন্দ্রিক এবং পরিবার ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক লেখাপড়া ছিল প্রাচীন বাংলার বাস্তব চিত্র। ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে আরবে আগমন ঘটে মহানবী (স.)-এর। এ যুগকে মধ্যযুগ বলা হয়। এ যুগে মহানবী (স.) আনীত ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার এক মহাবিপ্লব ঘটে। নবীজির অনুসারীগণ শিক্ষা প্রচার ও প্রসারের নিমিত্তে ছড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন দেশে। ৭১১ সালে ভারতবর্ষে আগমন ঘটে মুহাম্মদ বিন কাসিমের। তিনি রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারের দিকে বিশেষ নজর দেন। মক্তব ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে শিশু শিক্ষার প্রবর্তন করেন। এ মক্তব ও মসজিদে মুসলিম শিশুর পাশাপাশি হিন্দু শিশুরাও শিক্ষাগ্রহণ করতো। এ সময় থেকেই এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি ধারা সৃষ্টি হয়। আর এ শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব সুগঠিত রূপ পায় সুলতানি আমলে (১২১০-১২৭৬)। fateh24.com সূত্রমতে, এ আমলে প্রতিটি ধনী বাড়ির সামনে মক্তব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এসব মক্তবে আরবি ও ফার্সি পাঠ দান করার পাশাপাশি হস্তলিপিও শেখানো হতো। হিন্দু শিশুরাও এসব মক্তবে পড়াশোনা করতো। বাংলার শাসকগণ প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষার বিষয়েও অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। এ উপলক্ষে শাসকগন প্রচুর লা খেরাজ জমি দান করে দিতেন। নওগাঁর মহিসন্তোষ তকিউদ্দিন আরাবী প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দকৃত জমিই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ প্রতিষ্ঠানের জন্য দানকৃত জমির পরিমাণ ছিল ২৭০০ একর। রাজশাহী জেলার বাঘাতে মাদ্রাসার জন্য দান করা জমির পরিমাণ ছিল ৪২ টি গ্রাম। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে লেখাপড়া করতো। ১২৭৮ সালে শারফুদ্দীন আবু তাওয়ামা কর্তৃক সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ছিল বাংলার সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা। এসময় মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে ছিল আরবি, নাহু, সরফ, বালাগাত, মানতিক, কালাম, তাসাউফ, সাহিত্য ফিকাহ, দর্শন ইত্যাদি। মোগল আমলে (১৫২৬ থেকে ১৮৫৭ সালে) বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এ পাঠ্যসূচির সাথে সংযুক্তি ঘটে। জীববিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল, কৃষি, লোকপ্রশাসন, চারুকলা ইত্যাদি জ্ঞানের এ শাখাগুলো মাদ্রাসাশিক্ষার সাথে সংযুক্ত হয়। এভাবেই প্রাচীনকালে মাদ্রাসাশিক্ষার মাধ্যমে উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সোনালী অধ্যয়েরর যাত্রা শুরু হয়।
কিন্তু ইংরেজ আমলে (১৭৫৭-১৯৪৭) পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাদ্রাসাশিক্ষার পথ সংকুচিত হতে থাকে। শুরু হয় ইংরেজ শাসন। এসময় ইংরেজরা মাদ্রাসার নামে বরাদ্দকৃত জমি বাজেয়াপ্ত করতে থাকে। তাদের প্রায় ২০০ বছরের শাসনামলে ৮০,০০০ মাদ্র্রাসার ভিতরে ৭৮,০০০ মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার গতি রুদ্ধ হতে থাকে। কিন্তু বাংলার ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ নিজের বাড়িতে, পাড়ায় ও মহল্লায় মক্তব, মসজিদ ও খানকা নির্মাণপূর্বক মাদ্রাসাশিক্ষার ধারা অব্যাহত রাখেন। দেশের ধর্মপ্রাণ জনতা ও আলেম সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে ইংরেজ শাসকদের ষড়যন্ত্র শতভাগ সফল হয়নি। ইংরেজগণ অবশ্য মুসলিম কিছু আইন অফিসার তৈরীর জন্য ১৭৮০ সালে উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠা করেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা। আর আলেম সমাজের উদ্যোগে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেওবন্দের সুবিখ্যাত কওমি মাদ্রাসা। এ দুই ধারার মাদ্রাসা উপমহাদেশে সফলভাবে চলতে থাকে সমান্তরালভাবে। এ দুই ধারার বাইরে আরেকটি শিক্ষা ব্যবস্থার ধারণা জন্ম নেয় ১৯১৪ সালে। এ সালে মোহামেডান এডুকেশন এ্যাডভাইজারী কমিটি কর্তৃক বাংলাদেশে নিউ স্কিম ও ওল্ড স্কিম নামে দু’ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ধারণার জন্মে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল ও কলেজের যাত্রা শুরু হয়। এসব স্কুল ও কলেজে আরবি শিক্ষা, ইসলামী শিক্ষা ও ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল। বাংলাদেশের বিশিষ্ট মুসলিম নেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনটি অনুষদ আর বারোটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এ বারোটি বিভাগের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং আরবী বিভাগ ছিল স্বতন্ত্র দুটি বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলায় শিক্ষাব্যবস্থার মাত্রা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক (তৎকালীন খন্ডকালীন) শিক্ষামন্ত্রী মুসলমান শিক্ষার্থীদের স্বাতন্ত্র্য্য রক্ষার স্বার্থে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ও বরিশালের চাখার কলেজসহ অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। আর এসব প্রতিষ্ঠানে ইসলামী শিক্ষা পড়া ছিল বাধ্যতামূলক। মূলত মুসলিম নেতারা মুসলমানদের অতীত ধর্মীয় শিক্ষার স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জ্ঞানপিপাসার তৃপ্তি মেটাতে মসজিদ-মাদ্রাসার বাইরে ইসলামী শিক্ষার শুভ সূচনা ঘটান। এতে ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষিত আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হয়। ১৯৪৭ সালে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ঢাকায় স্থানান্তর হয়। ১৯৫৮ সালে ১১ ই মার্চ তদানীন্তন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খান এ মাদ্রাসার জন্য ঢাকার বকশীবাজারে চারতলাবিশিষ্ট ভবন ও ছাত্রাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাকিস্তান আমলে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে এ মাদ্রাসার ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। এ মাদ্রাসার বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন নওয়াব আব্দুল লতিফ ও সৈয়দ আমীর আলী। ১৯৬৩ সালে Islamic Arabic University committe এবং ১৯৭৩ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কার ও উন্নয়নে সুপারিশ গৃহীত হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর আমলে তার সুযোগ্য নির্দেশনায় মাদ্রাসাসমূহে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও বহুমুখী পাঠ্যসূচি প্রবর্র্তিত হয়। তাঁর নির্দেশনায় কোরআন-হাদিসের উন্নত গবেষণা লিখন, পঠন ও অধ্যয়নের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজের শিক্ষার ব্যবধান দূর করতে ১৯৮৫ সাল থেকে দাখিলকে এসএসসি এবং ১৯৮৭ থেকে আলিমকে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনতার দাবির মুখে মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার ফাজিলকে ডিগ্রী এবং কামিলকে মাস্টার্স মান প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়াা-এর অধীনে ফাজিলকে ডিগ্রী এবং কামিলকে মাস্টার্সের মান ঘোষণা করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আয়োজিত কওমি মাদরাসার আলেম ওলামাদের সঙ্গে এক বৈঠকে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের মান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমি ঘোষণা দিচ্ছি-কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ইন ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি-এর মান দেয়া হলো।” সূত্র: bangladesh.gov.bd উপরের আলোচনার দ্বারা এটাই বোঝা যায় যে, বাংলাদেশ ইসলামী শিক্ষার ইতিহাস অতি প্রাচীন ।এ শিক্ষার ইতিহাস একটি সোনালী আবরণে রচিত । এটি ধর্মপ্রাণ বাঙালি জাতির আত্মা ও অস্তিত্ব উন্নয়নের শিক্ষা । এ শিক্ষার রয়েছে গৌরবগাঁথা তেজোদীপ্ত একটি অধ্যয় । মুসলিমদের জাতীয় চেতনা এবং স্বাধীন পরিচিতির অপরিহার্যতা বিবেচনায় ইসলামী শিক্ষা তাই হাজার বছরব্যাপী তার গৌরব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল গোটা বাংলায়। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছিল এ শিক্ষা । প্রচন্ড ইসলামবিরোধী হওয়া সত্তেও ব্রিটিশরা এ শিক্ষা ধ্বংস করতে পারেনি । তখন স্কুল-কলেজে এ শিক্ষা ছিল বাধ্যতামূলক । পাকিস্তান আমলেও ইসলামী শিক্ষা ছিল ধারাবাহিক বাধ্যতামূলক বিষয়ের একটি । বাংলাদেশ আমলেও এ শিক্ষা স্বগতিতে এগিয়ে চলে । ইসলামী শিক্ষার সপ্রসারণে, কোরআন-হাদিসের উন্নত গবেষণা ও বাংলার মুসলিম মানসে ধর্মীয় চেতনা প্রোথিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ২২ শে মার্চ প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ । ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও প্রসারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন । (পূর্বে স্বায়ত্বশাসিত মাদ্রাসা বোর্ড ছিল না)। জাতীয় পর্যায়ে তিনি ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের ব্যবস্থা করেন । তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার জন্য টঙ্গীতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেন । কাকরাইল মারকাজ মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ দেন । হজ পালনের জন্য তিনি সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করেন । ঈদে মিলাদুন্নবী, শবে কদর ইত্যাদি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন । ঐদিন সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ করেন । মদ জুয়া এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ এবং তার জন্য শাস্তির বিধান নিশ্চিত করেন । রাশিয়াতে প্রথম তাবলীগ জামাত প্রেরণের ব্যবস্থা করেন । আরব ইসরাইল যুদ্ধে আরব বিশ্বের পক্ষ অবলম্বন ও সাহায্য প্রেরণ করেন এবং ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করে মুসলিম বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন । মূলত বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন একটি ভঙ্গূর বাংলার অবকাঠামোর উপরে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে মুসলিম উম্মাহর জন্য যে ভূমিকা রেখেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসারযোগ্য । উপরোক্ত দীর্ঘ এ আলোচনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা মাত্র । গত দুই দশকে তাই তিনি ইসলামী শিক্ষা এবং মাদ্রাসার জন্য যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তা সত্যিই ইসলামপ্রিয় বাঙালির কাছে প্রশংসিত এবং নন্দিত হয়েছে । তিনি ২০১৩ সালে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য স্বতন্ত্র একটি আরবী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন । বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে সারাদেশের কলেজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে; অনুরূপভাবে সারা বাংলাদেশের ফাজিল এবং কামিল মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । যা মাননীয় প্রধাানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পেয়েছে । তিনি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের মান দিয়ে বাংলাদেশে একটি অসম্ভর সাহসী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন । তার এ কাজগুলো ধর্মপ্রাণ বাঙালি তৌহিদী জনতার কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে । কিন্তু যত সমস্যা হয়েছে স্কুল-কলেজের ১০০ নম্বরের ইসলামী শিক্ষা নিয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে যে, ২০২২ সালের শিক্ষা কারিকুলামে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক শ্রেণীতে দশটি বিষয় পড়ানো হবে । সেগুলো হলো: ১. ভাষা ও যোগাযোগ, ২. গণিত ও যুক্তি, ৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ৪. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৫. সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, ৬. জীবন ও জীবিকা, ৭. পরিবেশ ও জলবায়ু, ৮. মূল্যবোধ ও নৈতিকতা, ৯. শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা এবং ১০. শিল্প ও সংস্কৃতি । আর দশম শ্রেণীতে বোর্ড পরীক্ষা হবে মাত্র পাঁচটি বিষয়ে । সেগুলো হলো: ১. বাংলা, ২. ইংরেজি, ৩. গণিত, ৪. বিজ্ঞান ও ৫. সামাজিক বিজ্ঞান । এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা থাকবেনা । তবে বোর্ড পরীক্ষায় ইসলাম শিক্ষা না থাকলেও পাঠ্যসূচিতে ইসলামী শিক্ষা থাকবে বলে বিবিসি সূত্রে এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা নিশ্চিত করেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন: “পরীক্ষা না হলেই যে শিখবে না, এমনটা ঠিক না । ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষাতো অনুশীলন ও অনুধাবনের বিষয় । মুখস্ত করে পরীক্ষায় কেউ লিখল কিন্তু হৃদয়ে ধারন করল না । তাহলেতো হবে না । এখন শিক্ষার্থীদের এই চর্চার বিষয়টি যেন সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়, আমরা সেটাতেই গুরুত্ব দিচ্ছি” ।
মূলত ইসলামী শিক্ষার প্রতি একটি মহলের কুদৃষ্টি সৃষ্টি হয় ২০০১ সাল থেকে । এসময়ের তত্তাবধায়ক সরকার ১০০ নম্বরের ইসলামী শিক্ষাকে ৫০ নম্বরে সংকুচিত করার হীন প্রয়াস শুরু করেন । তিন মাসের জন্য ক্ষমতায় থাকা সরকারের এ বিষয়টি চিন্তা করার কথাই ছিল না । অথচ তাদের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা চরম ইসলাম বিদ্বেষী কিছু ব্যক্তির ১০০ নম্বরের ইসলামী শিক্ষার প্রতি গাত্রদাহ শুরু হয় । পরবর্তীতে ধর্মীয় বাঙালি জাতির প্রতিবাদের মুখে তারা সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি । এরপর ২০১৩ সালে শুরু হয় স্কুলের ইসলামী শিক্ষা নিয়ে নতুন কারসাজি । এসময় ‘ইসলাম শিক্ষা’ বইয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। নতুন নাম দেয়া হয় ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’। অথচ হিন্দুধর্ম শিক্ষা ও খ্রিষ্টান ধর্ম শিক্ষা বইতে এরকম নাম দেয়া হলো না । এখানে প্রচ্ছন্নভাবে “ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা” দুটো নামের মাঝখানে “ও” অব্যয় দ্বারা দুটো ভিন্ন জিনিস বুঝানো হয়েছে । আর উভয়ের মাঝে বিরোধ আছে মর্মে সূক্ষ একটি কারসাজিরও বীজ বপন করা হয়েছে । কারসাজির এ সূত্র ধরে দুষ্টচক্রটির পরবর্তী পদক্ষেপ হবে এ শিক্ষাটিকে পাঠ্যসূচী থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেয়া । একই সূত্রের ফলস্বরুপ কলেজে এ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইসলামী শিক্ষা বিষয়টি একটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রূপ পেয়েছে । এতে কলেজের ইসলামী শিক্ষার শিক্ষকগণ ঐচ্ছিক বিষয়ের একজন গুরুত্বহীন শিক্ষকে পরিণত হয়েছেন । অন্যদিকে ছাত্রসংখ্যাও এ বিষয়ে আস্তে আস্তে লোপ পেতে পেতে তলানীতে যেয়ে থেমেছে । অথচ ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষেও কলেজগুলোতে মানবিক, বিজ্ঞান এবং ব্যবসা-সকল শাখার শিক্ষার্থীগণ ইসলামী শিক্ষাকে আবশ্যিক সাবজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করতো । এমতাবস্থায় মাধ্যমিকের বোর্ড পরীক্ষায় যদি ইসলামী শিক্ষা না থাকে তাহলে এটা পাঠ্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বাদ হয়ে যাওয়ার সকল বাঁধা দূর হয়ে গেল বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন ।
অথচ পৃথিবীতে এখনো ইসলাম ধর্ম ও ইসলাম শিক্ষার প্রভাব বিদ্যমান । আধুনিক ধর্মহীন মতবাদগুলো পৃথিবীতে যে প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাব পৃথিবীতে তার চেয়ে মোটেই কম নয়; বরং অনেকগুণ বেশী। সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ আর উত্তরের নরওয়ে থেকে দক্ষিণের চিলি-এ বিশাল পৃথিবীর দিকে একটু চোখ মেলে তাকালে দেখা যাবে যে, যুগ যুগ ধরে মানুষ একটু শান্তি, একটু স্বস্তি আর নির্মল জীবন যাপনের জন্য ইসলাম ধর্ম, ইসলামী শিক্ষা ও ইসলামী সংস্কৃতির সম্মোহনী শক্তির অনুসন্ধান করেই চলছে । আর বর্তমান বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও এই শিক্ষার অনুসন্ধান ক্রমে বেড়েই চলছে । জনগণ এখনো মনে করেন যে, আধুনিক মতাদর্শী নেতাদের তুলনায় প্রকৃত ধর্মীয় নেতারা অধিক নৈতিকবোধসম্পন্ন মানুষ । তারা আরো মনে করেন যে, দেশ থেকে রাজাকার, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ তাড়ানোর নামে ইসলামী শিক্ষা তাড়ানো দেশের জন্য কখনো শুভ হবে না । তারা মনে করেন, স্কুল কলেজে ইসলামী শিক্ষা শেখানোর মাধ্যমে ধর্মান্ধতা জন্ম নেয় না । বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বেকারত্ব, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আয়- বৈষম্য ও পর্নোগ্রাফির বিষাক্ত ছোবলে দিশেহারা । এমতাবস্থায় তাদেরকে ন্যূনতম একটু ধর্মের শিক্ষা যদি না দেয়া হয় তাহলে তারাই বরং ধর্মান্ধ হবে । কতৃপক্ষের বুঝা উচিত যে, কোমলমতি শিশুদের কাছ থেকে কোনোক্রমেই ধর্ম সরানো উচিত হবে না । তাদেরকে ধর্ম থেকে দূরে সরাতে চাইলে, জাতিকে ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ রাখতে চাইলে তারাই হয়তো একসময় ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়বে । আবহমানকালের বাংলার ইতিহাস এই সাক্ষী দেয় যে, বাংলায় সুফি, দরবেশ ও পীর-মাশায়েখ কর্তৃক প্রচারিত ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমেই এদেশে ইসলামের প্রসার ঘটেছে । এ শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের মাঝে নীতিবোধ, রুচিবোধ ও নৈতিকতাবোধ সৃষ্টি হয়েছে । তারা কখনোই জঙ্গিবাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করেন নি । তারা ধর্মান্ধ ছিলেন না । তারা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন । তাদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দলে দলে লোক সেই শিক্ষা গ্রহণ করেছে । সুতরাং আমরা চাই সেই শিক্ষা স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ুক । ধর্মপ্রাণ বাঙালির প্রাণের দাবী হল, স্কুল এবং কলেজে আগের মত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকুক, বাংলাদেশের শুধু মাত্র পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী বিভাগ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ আছে । অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এই দুটি বিভাগ খোলা হোক ! দাওরা মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করে দাওরা মাস্টার্সধারী পোস্ট গ্রাজুয়েটদের মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক ! দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রাণ বাঙালি মনে করেন যে, বাংলাদেশ সবেমাত্র মধ্যম আয়ের দেশে পা রেখেছে । সরকারের এখন টার্গেট ধাপে ধাপে সেটাকে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করা । আর এই টার্গেটে পৌঁছাতে মাদ্রাসায় পড়ুয়া লক্ষ লক্ষ তরুণকে বেকার রেখে সে লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব হবে না । সুতরাং ইসলামী শিক্ষা বন্ধ নয় বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে তার আরো ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া হোক । লোকবল নিয়োগপূর্বক প্রাতিষ্ঠানিক প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি করে দেশ থেকে বেকারত্ব লাঘব করা হোক । উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার পথকে বেগবান করা হোক-এটাই ধর্মপ্রাণ বাঙালি জাতির কামনা ।

প্রকাশ:- নয়া দিগন্ত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ABOUT ME

প্রফেসর,
দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ।

সকল ক্যাটাগরী

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x